স্বাস্থ্য বিধি মেনে তারকেশ্বর মন্দিরের গেট খুললো

পাঁচ মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলল তারকেশ্বর মন্দিরের দরজা। গতকাল মন্দির কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয় মন্দির খোলার। স্বাস্থ্য বিধি মেনে মুখে মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সকাল থেকেই পুজো দিতে ভীড় করেন ভক্তরা।

করোনা সংক্রমন আটকাতে গত ২৪ শে মার্চ থেকে তারকেশ্বর মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তরকেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষ।এর ফলে পুণ্যার্থীরা যেমন দেবাদিদেবের দর্শন থেকে বঞ্চিত ছিলেন তেমনি মন্দির সংলগ্ন হোটেল পুজো সামগ্রীর দোকান ব্যবসা ক্ষতির মুখে পরেছিলো। চৈত্র মাসের গাজন শ্রাবণ মাসের শ্রাবণী মেলায় লক্ষ মানুষের সমাগম হয় তারকেশ্বরে। গোটা দেশ থেকে পুণ্যার্থীরা আসেন। বৈদ্যবাটি নিমাইতীর্থ ঘাট থেকে গঙ্গার জল তুলে বাঁকে করে প্রায় চল্লিশ কিমি পথ পায়ে হেঁটে ভক্তরা তারকেশ্বরে পৌঁছে শিবের মাথায় জল ঢেলে পুণ্য অর্জন করেন। নানা মানসিক পূরনে আর মহাদেবের টানে সারা বছর তারকেশ্বরে লোক সমাগম হয়।

এবার তা আর দেখা যায়নি। বিশ্বজোরা মহামারিতে দেশের অন্যান্য মন্দিরের মত তারকেশ্বর মন্দিরও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংক্রমন বাড়লেও মহামারি পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। প্রথমদিকের সেই ভয় আতঙ্ক অনেকটা দূর হয়েছে। এখন করোনা আক্রান্ত হলেও বাড়িতে থেকেই সুস্থ হয়ে উঠছেন বেশিরভাগ আক্রান্ত। আর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তারকেশ্বরের পুরোহিত, পান্ডা, ব্যবসায়ীদের জীবিকায় টান পড়ে। সকাল থেকে মন্দিরে মাইক প্রচার চলছে স্বাস্থ্য বিধি মানার জন্য। মন্দিরের মূল দরজায় প্রবেশ করতে তিনটি গেট পেরোতে হচ্ছে। দূরত্ব বজায় রেখে পুজোর ডালি নিয়ে অপেক্ষা করছেন ভক্তরা। মন্দিরের দরজা খুললেও গর্ভগৃহে এখনই প্রবেশের অধিকার থাকছে না ভক্তদের। শিবের মাথায় জল ঢালতে চোঙার ব্যবহার করা হচ্ছে। দুধ পুকুরে স্নান করে পুজো দেওয়ার রীতিতেও বিধি নিষেধ রয়েছে। তবে মন্দির খুলেছে পুজো দিতে পেরে খুশি ভক্তরা।পুজো দিয়ে কৈলাশ পতির কাছে তাদের প্রার্থনা দেশ তথা বিশ্বকে এই মহামারি থেকে মুক্ত করো।

ছবি ও সংবাদ : সুভাষ মজুমদার

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*