৩৪ বছরের পাশে ৯ বছরের কাজ রাখলেই উন্নয়ন দেখতে পাবেন: শুভেন্দু

চৌত্রিশ বছরের পাশে মা-মাটি-মানুষ সরকারের প্রায় নয় বছরের কাজ রাখলেই উন্নয়ন কতটা হয়েছে তা দেখতে পারবেন। বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ ২০২০ পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের কাদুয়া গ্রামে গিয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, সংবিধান রচনার সময় দেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান করে দেওয়ার পাশাপাশি পরিশুদ্ধ পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও সড়কের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছিল। এ সবই বাংলায় সুনিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৩৪ বছরে কী কাজ হয়েছে তার সঙ্গে গত প্রায় নয় বছরের কাজের তুলনা করলেই দেখা যাবে উন্নয়ন। খাদ্যসাথী বিপ্লব এনেছে। রাজ্য সরকারের ৬০টির মতো নিজস্ব প্রকল্প রয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সম্মিলিত কিছু প্রকল্পও রয়েছে। এগুলির বেশিরভাগ পঞ্চায়েতের মাধ্যমেই হয়। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রকল্প সুনিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরও বাংলা আবাস যোজনার পাশাপাশি তিনি চালু করলেন ২৫ হাজার মানুষের জন্য স্নেহালয়, বাড়ি তৈরির জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। চালু থাকা পেনশন বা ভাতার পাশে চালু করলেন জয় বাংলা, জয় জোহার নতুন পেনশন প্রকল্প, সব পেনশন বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হলো। কৃষিজমির খাজনা মকুব করার পাশাপাশি কৃষকবন্ধু প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি কৃষকদের সাহায্য করছেন। বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যজীবীদের তিনি আর্থিক সাহায্য করেছেন। এ জন্য কোনও রেকর্ড জমা দিতে হয়নি বা কোনও নেতার কাছে জবাবদিহি করতে হয়নি। সমবেত মহিলাদের উদ্দেশে শুভেন্দুবাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির সাবসিডি ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। সুদের হার ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি জিনিস কেনা-বেচার ব্যবস্থা হয়েছে, সবলা মেলা-সহ বিভিন্ন হাটে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ৫ হাজার টাকা করে উৎসাহ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আগে প্রাণীমিত্রারা গোল্লা পেতেন, এখন দেড় হাজার টাকা পান, মোবাইল পেয়েছেন। আশা কর্মীরা গোল্লা পেতেন, তাঁদের সাড়ে তিন হাজার টাকা দিচ্ছে আমাদের সরকার। তাঁদের সাইকেল, মোবাইল, শাড়ি দেওয়া হয়েছে। মহিলারা যাতে স্বনির্ভর হতে পারেন তার ব্যবস্থা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েতে ৫০ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ দেশের আর কোথাও নেই। এদিন কাদুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নবনির্মিত সভাকক্ষ, বিশ্ব বাংলার লোগো ও প্রবেশদ্বারের দ্বারোদ্ঘাটন করে শুভেন্দুবাবু বলেন, পঞ্চায়েত অফিস জনগণের অফিস। গ্রামের মানুষরা যাতে গর্ব করে পঞ্চায়েত অফিস সকলকে দেখাতে পারেন তার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। আরও উন্নয়ন হবে। এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভগ্নপ্রায় কাঠের সেতুর জায়গায় ফুটব্রিজ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, যাতে ওই ব্রিজ দিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স, ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি-সহ চার চাকা গাড়ি যেতে পারে তেমনই ফুটব্রিজ তৈরি করা হবে। পরিবহণ দফতর এই এলাকায় আলোকিতকরণের কাজ করবে, বিল দেবে পঞ্চায়েত নিজস্ব তহবিল থেকে। এ ছাড়াও এলাকার সৌন্দর্যায়নে আরও ২০ লক্ষ দেবেন বলে জানান শুভেন্দুবাবু। তিনি বলেন, বিশ্ব বাংলা লোগো উদ্বোধন হলো, এটা সৌন্দর্যায়ন-সহ ‘বিশ্ব বাংলা’র প্রচারের সহায়ক হবে। বাংলাকে বিশ্বসেরা করতেই হবে। আর আমি আপনাদের সেবক হিসেবেই সেবা দিতে চাই।  

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*