করোনা পরিস্থিতিতে সচেতনতামূলক আলোচনাচক্র

পাঁচ মাস অতিক্রান্ত। এখনও মানুষ বন্দী জীবন থেকে পুরোপুরি মুক্ত নন। আতঙ্কে কাটছে দিন রাত। যদি সংক্রমণ আরও বাড়ে কী হবে? কী করবেন মানুষ? সুস্থ হবেন কী করে? হাসপাতাল কত মানুষকে চিকিৎসা দেবে? সত্যিই সুস্থ হওয়ার জন্য হাসপাতালে যাওয়া আদৌ কি দরকার, কিংবা কতটা দরকার? সামাজিকভাবে আক্রান্ত মানুষ কী পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন? এরকম আরও অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষের মধ্যে কীভাবে সচেতনতা গড়ে তোলা যায় এবং কেমনভাবে আক্রান্তের পাশে দাঁড়ানো যায় তা নিয়ে এক আলোচনা সভা আয়োজিত হলো শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালে, কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্কের সহযোগিতায়।

বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ডা. অভিজিৎ চৌধুরী ছিলেন এই সভায় অন্যতম প্রধান আলোচক। ছিলেন বিশিষ্ট মনোবিদ এবং কোভিডজয়ী মোহিত রণদীপ। কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্কের পক্ষে ছিলেন সত্যরূপ সিদ্ধান্ত এবং পার্থসারথি মুখোপাধ্যায়। বিভিন্ন ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। সবাইকে এক জায়গায় আনার প্রধান দুই করিগর হলেন শ্রমজীবী হাসপাতালের সভাপতি ফণিভূষণ ভট্টাচার্য এবং সহ সম্পাদক গৌতম সরকার। বিভিন্ন এলাকায় ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলোর হাত ধরে এই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।

একইভাবে শুক্রবার ১৪ আগস্ট তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রিষড়া পৌরসভার স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে একটি আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত হলো পুরসভার ডা. নারায়ণ ব্যানার্জি আলোচনাকক্ষে। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন ডা. কুণাল দত্ত এবং মনোবিদ ডা. মোহিত রণদীপ। ডা. কুণাল দত্ত জানান, বর্তমানে উত্তরোত্তর করোনার প্রকোপ বেড়ে চলেছে । এই অবস্থায় সাধারণ মানুষ অসহায় বোধ করছেন। নানা ধরনের চিন্তা ভয়-ভীতি তাঁদের গ্রাস করছে। এই পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায় সে বিষয়ে রিষড়া পৌরসভার যে সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা আছেন তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রোগীরা একদিকে যেমন কীভাবে ভয় ভীতি থেকে মুক্ত হবেন তার সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে তাঁদের চিকিৎসা হবে, কীভাবে অক্সিজেন পাবেন, কীভাবে হসপিটালের বেড পাবেন তাই নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। যাতে রোগীদের সংক্রমণ হলে তাঁদের মনে সাহস যোগানো, তার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে খোঁজখবর নেবেন, তাঁদের হসপিটালে ভর্তির ব্যবস্থা করবেন এবং অ্যাম্বুল্যান্সের যেখানে প্রয়োজন যাতে তা যাতে শীঘ্রই পাওয়া যায় সেই বিষয়টা তাঁরা যত্ন সহকারে দেখবেন এবং এই বিষয়গুলি পুরসভার স্বাস্থ্য বিষয়ক আধিকারিককে জানাবেন।

এই পৌরসভার ২৩টি ওয়ার্ডেই স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিনিয়ত মানুষের স্বাস্থ্য সম্বন্ধে খোঁজখবর নেবেন। অন্যদিকে রিষড়া পৌরসভার মুখ্য প্রশাসক বিজয় সাগর  মিশ্র বলেন, আমাদের পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা পুর এলাকার কোনও নাগরিক করোনার আতঙ্কে যেন বিব্রত হয়ে না পড়েন তার জন্য সদা সচেষ্ট থাকবেন। কীভাবে তাঁরা কাজ করবেন, কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন সেই নিয়েই আজকে ডাক্তারবাবুরা তাঁদের প্রশিক্ষণ দেন। মনোবিদ মোহিত রণদীপ এই করোনার আবহে যাতে মানুষের মনে সাহস সঞ্চার করা যায় এবং এই রোগটি নিয়ে তাঁদের কি চিন্তাভাবনা সেই বিষয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রিষড়া পৌরসভার স্বাস্থ্য বিষয়ক নোডাল অফিসার অসিতাভ গঙ্গোপাধ্যায়।

ছবি ও সংবাদ: তরুণ মুখোপাধ্যায়

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*