নোভেল করোনার বিষদৃষ্টি হৃদযন্ত্রেও!

সৌম্য সিংহ

বুকে ব্যথা। লক্ষণ দেখে মনে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক। কিন্তু আদৌ তা নয়।  আসলে হৃদযন্ত্রে হয়তো থাবা বসিয়েছে করোনা ভাইরাস। হ্যাঁ, ফুসফুস তথা রেসপিরেটরি সিস্টেমের পরিধি ছাড়িয়ে মারণ ভাইরাসের নজর এবারে হার্টেও। এ ব্যাপারে তাই বিশেষ সতর্ক চিকিৎসক-মহলও। কথা হচ্ছিল এস এস কে এমের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সরোজ মন্ডলের সঙ্গে। তাঁর মতে, হৃদযন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার মতো ভাইরাসের সংক্রমণও ঘটতেই পারে। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয়, মায়োকার্ডাইটিস (Myocarditis)।

ব্যাপারটা ঠিক কী? সাধারণ হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে এর পার্থক্যটাই বা কী?  সহজভাবে ব্যাখ্যা করলেন ডা. সরোজ মন্ডল। হার্ট অ্যাটাক বা করোনারি হার্ট ডিসিসের সঙ্গে মূলত জড়িত থাকে হৃৎপিন্ডের যে কোনও দেওয়াল বা Heart Wall. সেটা হতে পারে Anterior Wall, Posterior Wall কিংবা Septum.  কিন্তু ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে তা গ্রাস করে গোটা হৃদযন্ত্রের পেশী বা Heart Muscleকে। যাকে বলা হয়  Myocardium. ফলে হার্টের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ব্যাহত হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, প্রাথমিকভাবে রোগীকে দেখে আদৌ বোঝা যায় কি আসল সমস্যাটা? মানে তাঁর ঠিক কী হয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে মানুষের সাধারণত বুকে ব্যথা করে, অস্বাভাবিক ঘামও হতে পারে। কিন্তু ভাইরাস আক্রমণের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম। বুকে ব্যথা হতেই পারে, তবে তা ঠিক হার্টের ব্যথা নয়। কিন্তু যেটা  বিশেষভাবে লক্ষ্য করার মতো,জ্বর আসতে পারে রোগীর। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে দেখা দেওয়ার কথা ঠিক এই লক্ষণই। মোটকথা যা দেখে আসল পার্থক্যটা বোঝা যায়, হার্ট অ্যাটাকে জ্বর আসে  না, কিন্তু ভাইরাস সংক্রমণে সাধারণভাবে জ্বর আসে। থাকলেও থাকতে পারে সর্দি-কাশি-শ্বাসকষ্ট। কারও হয়তো দেখা গেল, এমনিতে কোনও অসুবিধে ছিল না। কিন্তু আচমকাই বুকে অস্বস্তি,ব্যথা,সঙ্গে জ্বর। এক্ষেত্রে কিন্তু করোনা বা ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রবল। কিন্তু কারও যদি শুধুমাত্র বুকে বেশ ব্যথা ওঠে তা হলে হার্ট অ্যাটাকেরই সম্ভাবনা। এই লক্ষণ সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারলেই  ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত আলাদা করে আর অ্যানজিওপ্লাস্টি করার দরকার পড়ে না। করলেও কিছুই বোঝা যায় না আদৌ। অনেক সময় করা হয় না যে তা নয়, তবে কিছুই ধরা পড়ে না। কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে আক্রান্তের শারীরিক অবস্থা আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য সাধারণত অ্যানজিও জরুরি। এই প্রসঙ্গেই বলা যেতে পারে যে করোনাত্রাসের মধ্যেও একের পর এক অ্যানজিওপ্লাস্টি করেই চলেছেন ডা.মন্ডল। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে এক লক্ষ টাকা দিয়ে করোনা-বিরোধী যুদ্ধে সংহতিও জানিয়েছেন তিনি।  

হৃদযন্ত্রে করোনা ভাইরাসের হানার বিষয়ে সম্প্রতি আলোকপাত করেছেন কার্ডিওলজিস্ট ডা. অরিন্দম পান্ডেও। তাঁর আশঙ্কা, করোনা ভাইরাসের আক্রমণের বিষয়টা প্রাথমিকভাবে বোঝা না গেলে হৃদরোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে বিপদে পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট ডাক্তার, নার্স বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেই কারণেই যে কোনও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগেও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা এবং যথেষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।    

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*