নন্দীগ্রামে গণহত্যার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি চাই: শুভেন্দু অধিকারী

নন্দীগ্রামের গণহত্যার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি চাই। শিখ দাঙ্গা, ভাগলপুর দাঙ্গার বহু বছর পর দোষীদের শাস্তি হলে, নন্দীগ্রামে যারা খুন, ধর্ষণ, অত্যাচার চালিয়েছে তারা কেন ঘুরে বেড়াবে? শনিবার ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি কৃষক দিবস উদযাপনে কৃষকদের হাতে চেক তুলে দিয়ে এই দাবি জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এখনও অনেকে ঘুরে বেড়াচ্ছে যারা সেদিন গুলি চালিয়েছিল। পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়। পিঠে কারা গুলি করে? কেউ আক্রমণ করতে এলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে তা তো সামনে লাগবে। ৪৫ জন মহিলাকে ধর্ষণ করা হয়। কয়েকজনকে তো একাধিকবার। ফলে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাই। সিপিআইএম ও বিজেপিকে একযোগে নিশানা করে শুভেন্দুবাবু বলেন, দুর্গাচকে আফতাব নামে একজনের বিয়েতে গিয়েছিলাম। সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁর ভাই আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছিল, যে এখন খুন করে গ্রেফতার হয়েছে। অথচ সেই পারিবারিক অনুষ্ঠানের ছবি দিয়েই পোস্টার বানিয়ে এখন কুৎসা করতে নেমেছে সিপিআইএম ও বিজেপি!


নন্দীগ্রামের ঘটনায় কথা স্মরণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০০৭ সালে সেই রক্তাক্ত অধ্যায় ভুলতে পারিনি, পারব না। কলকাতায় শহিদ মিনার স্বাধীনতার আগে হয়েছে। নন্দীগ্রামে যে ১৩২ ফুট সুউচ্চ শহিদ মিনার হয়েছে তা স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড়ো। এটি তৈরিতে অনেকে সহযোগিতা করেছেন। এখানে ৭ জানুয়ারি ও ১৪ মার্চ ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির কর্মসূচি থাকে। সিপিআইএম ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, সংবেদনশীল মানুষরা মিলিত হয়ে ২০০৬ সালে ডিসেম্বরের শেষে এক মধ্যরাতে আমরা ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি প্রতিষ্ঠা করি। বশ্যতাবিরোধী সংগ্রাম জয়যুক্ত হয়েছিল বলে আমরা আজও সেই ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানার ব্যবহার করি। সেই সংগ্রামে প্রচুর মানুষের আত্মত্যাগ, বলিদান রয়েছে। অনেক মা-বোনেদের নারীত্ব লুন্ঠিত হয়েছিল। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার সুযোগে যাঁরা সংবেদনশীল মানুষ, যাঁরা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সংবিধান, বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী তাঁরা ব্যাপকভাবে শুক্রবার থেকে নন্দীগ্রাম গণহত্যার বর্ষপূর্তিতে, শহিদ দিবসে সেই ঘটনাকে স্মরণ করছেন। শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, সকাল সাড়ে ১০টায় গুলি চলেছিল। সেই সময় ধরে গোকুলনগরে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভাঙাবেড়ার অনুষ্ঠানে এসেছি। উচ্চ মাধ্যমিক চলায় মাইক ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এদিন সন্ধ্যায় শহিদ স্মরণে ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে প্রজ্জ্বলিত দীপশিখা নিয়ে নন্দীগ্রাম বাজারে জ্যোতি মিছিল বেরোবে, তাতে হাঁটবেন পাঁচ হাজার মানুষ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*