দিদি-দাদার বাজিমাতে ‘শ্রী’ যোগে আইএসএলে ইস্টবেঙ্গল

নতুন ইতিহাস রচিত হলো। এ যেন ‘হারা ম্যাচ জিতে যাওয়া।’ বুধবার ২ সেপ্টেম্বর নবান্ন সভাঘরে ইস্টবেঙ্গলের আমন্ত্রিত হয়ে এসে এমনভাবেই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লড়াইয়ের নাম ইস্টবেঙ্গল, সেই লড়াইয়ের মেজাজটাই অক্ষুণ্ণ থাকল আইএসএল খেলার যুদ্ধে। সঞ্জীব গোয়েঙ্কার এটিকের সঙ্গে মার্জার করে আইএসএল খেলার ছাড়পত্র আদায় করেছিল মোহনবাগান। অপেক্ষায় ছিলেন লাল হলুদের সমর্থকরা। ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত (নীতু) সরকার তো বলেই ফেললেন, আবেগ বলতে বাধ্য করছে। মোহনবাগান আইএসএলে খেলা নিশ্চিত করতেই ফোন পেয়েছিলাম মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেছিলেন, চিন্তা নেই আমি দেখছি।

করোনা পরিস্থিতি, লকডাউনের মধ্যে ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি না থাকলে শ্রী সিমেন্টকে লগ্নিকারী হিসেবে পেয়ে আমাদের জন্য আইএসএলের দরজাই খুলত না। বাস্তব সেটাই। বিগত কয়েক মাসে কম ঝড়ঝাপটা যায়নি। অনেকের সঙ্গে কথা এগিয়েও থমকে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখন কেউ পয়সা খরচ করতে চাইছেন না। সেখানে শ্রী সিমেন্ট ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন করার লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছে, বড় ইনভেস্টর, তাদের ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, ভবিষ্যতে এই সংস্থা বাংলাতেও লগ্নি করবে। বাংলা ফুটবলের গেটওয়ে। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মহমেডানের ভক্ত বিদেশেও রয়েছেন। বাংলার রন্ধ্রে ফুটবল। শতবর্ষে ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলবে না, এটা মানতে পারছিলাম না। এআইএফএফের সভাপতি প্রফুল প্যাটেলের সঙ্গে কথা বলি।

রিলায়েন্সের তরুণ ঝুনঝুনওয়ালাও খুব চেষ্টা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফোন করেন মুকেশ আম্বানিকে। নীতা আম্বানির মাধ্যমে এফএসডিএলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়। যাবতীয় বাধা দূর করতে অগ্রণী ভূমিকা নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও মুকেশ-পুত্র তথা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দেখাশোনার দায়িত্ব সামলানো আকাশকে বলেন ইস্টবেঙ্গলকে আইএসএল খেলানোর ব্যবস্থা করতে। আকাশ মা নীতা আম্বানিকেও বলেন। এভাবেই অতিরিক্ত সময়ের খেলায় দিদি-দাদার জোড়া ফলায় হয় লক্ষ্যভেদ। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এবার আইএসএল খেলার প্রক্রিয়া দ্রুত সেরে ফেলবেন লাল হলুদ কর্তারা।

কলকাতার দুই প্রধান আইএসএল খেলবে জেনে বাংলার ফুটবলে নতুন জোয়ার এসে গেল। উৎকণ্ঠার অবসান হলো সুখবরে। উচ্ছ্বসিত ফুটবল ভক্তরা। দুই প্রধানকেই আগাম শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। ইস্টবেঙ্গল ফুটবল মিউজিয়াম উদ্বোধনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সময় চেয়েছে। জেলা থেকে ফুটবলের সাপ্লাই লাইন তৈরিতেও রাজ্য সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে কলকাতার বড় ক্লাবগুলি। ময়দানের তিন প্রধানের জন্য তিনটি গেট তৈরির জন্য ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*