চিন সেনার হামলায় নিহত কর্নেল-সহ ৩ ভারতীয় জওয়ান, ৫৬ ইঞ্চি এখনও নীরব!

পরিযায়ী প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল ভ্রমণের নিট ফল যে বিগ জিরো তা বারেবারেই প্রমাণিত। নেপাল চমকাচ্ছে। আর চিন তো এবার জওয়ানদের মেরেই দিল। অথচ ৫৬ ইঞ্চি ছাতিওয়ালা এখনও নীরব! নোটবন্দিতে জঙ্গি সমস্যা থাকবে না বলে করা দাবি অন্তঃসারশূন্য। জওয়ানরা শহিদ হচ্ছেন, একটু কুম্ভীরাশ্রু ছড়িয়ে হাত গুটিয়ে বসে ৫৬, থুড়ি ৫-৬ ইঞ্চি!

লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত ও চিন সেনার সঙ্ঘাত এবার গড়াল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। সোমবার ১৫ জুন রাতে গলওয়ান উপত্যকায় চিন সেনার হামলায় ভারতীয় সেনার এক কর্নেল এবং দুই জওয়ান নিহত হয়েছেন। সেনার তরফে দাবি, সংঘর্ষে গোলাগুলি চলেনি। পাথর এবং রড নিয়ে মারামারিতে হতাহত হয়েছে দুই তরফেই। গতকালই দু’পক্ষের ব্রিগেডিয়ার পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছিল। তার পরেই চিনের হামলা। ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে মঙ্গলবার ১৬ জুন দুপুরে এক বিবৃতিতে বলা হয়, গলওয়ান উপত্যকায় উত্তেজনা প্রশমন প্রক্রিয়ার চলাকালীন গতকাল রাতে সংঘর্ষ এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সেনার এক অফিসার এবং দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। দু’পক্ষের উঁচুতলার অফিসারেরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৈঠক করছেন। সেনা সূত্রের খবর, ভারতীয় তিন সেনার মৃত্যুর পাশাপাশি ১১ জন আহত হয়েছেন। বেজিংয়ের দাবি, ভারতীয় সেনার আক্রমণে চিনের পাঁচ সেনা নিহত হয়েছেন। ৪৫ বছর পরে চিনা হামলায় ভারতীয় সেনার মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। ১৯৭৫ সালে অরুণাচল প্রদেশের চিন টুলুং লায় অসম রাইফেলসের টহলদার বাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে চার জওয়ানকে খুন করেছিল চিন সেনা। সেনা সূত্রের খবর, হতাহত অফিসার ও জওয়ানেরা ১৬ বিহার রেজিমেন্টের। এক কর্নেল, এক জুনিয়র কমিশনড অফিসার এবং এক রাইফেলম্যান রয়েছে এই তালিকায়। এদিন দুপুরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার প্রধান এবং চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল বিপিন রাওয়াতের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। ভারতই সমস্ত চুক্তি ভেঙে চিনে ঢুকে প্রথম হামলা চালায় বলে দাবি করে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এদিন এক বিবৃতিতে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, একতরফা পদক্ষেপ করবেন না। সৌজন্যকে দুর্বলতা ভাববেন না। আমরা শান্তির পক্ষে, তবে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিন প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, মে মাসের গোড়াতেই পূর্ব লাদাখের গলওয়ান উপত্যকা, নাকু লা এবং প্যাগং লেকের উত্তরপ্রান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতীয় এলাকায় কয়েক কিলোমিটার অনুপ্রবেশ করে চিনা ফৌজ ঘাঁটি গেড়ে বসে। খবর পেয়ে তাদের মুখোমুখি মোতায়েন হয় ভারতীয় সেনা। তার পর থেকে দফায় দফায় সেনাস্তরের বৈঠকেও জট কাটেনি। বেশ কয়েকবার দু’তরফের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। সেনা সূত্রের খবর, ৬ জুনের বৈঠকের পরে নাকু লায় দু’পক্ষ কিছুটা পিছিয়ে আসে। পিপি-১৫ এবং হট স্প্রিং এলাকাতেও চিন সেনা কিছুটা পিছু হটে যায়। অন্য এলাকাগুলিতে এখনও উত্তেজনা প্রবল।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*