কেমন করে জেগে ওঠে অপরাধী মন!

সৌম্য সিংহ

অপরাধী হয়ে কেউ জন্মায় না। পরিস্থিতিই মানুষকে অপরাধী তৈরি করে। প্রবচনটা একটা সময় যথার্থ বলে মনে হলেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগের ধারণাটা কিন্তু বদলে যাচ্ছে দ্রুত। অপরাধ-বিজ্ঞান নিয়ে নিরন্তর গবেষণার ফলাফল দাবি করছে,শুধু পরিস্থিতিকে দায়ী করলে চলবে না,অপরাধ প্রবণতা ভেসে আসতে পারে বংশগতির ধারাতেও। লুকিয়ে থাকতে পারে জিনে।

আইনের চোখে

অপরাধ ব্যাপারটা আসলে ঠিক কী? সঠিক সংজ্ঞা নিয়ে রয়েছে মতান্তর,মতভেদ। তবে আইন,নীতি এবং অনুশাসন – এই ৩টে বিষয়কে ঘিরেই মোটামুটি আবর্তিত হয় অপরাধের সংজ্ঞা। অবশ্য আইনই এব্যাপারে মূল বিবেচ্য। দেশের আইন না মানা বা আইন-বিরুদ্ধ কাজ অথবা আচরণকেই মূলত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। যেমন খুন,ডাকাতি,রাহাজানি,ধর্ষণ,সন্ত্রাস,মারামারি। আবার আইনের সূক্ষ চোখ এড়িয়ে গেলেও কিছু অনৈতিক কাজ বা আচরণকে নৈতিক অপরাধ বলে বিবেচনা করা হয়। সামাজিক অনুশাসনকে অমান্য করলে তা নৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। আবার নির্দিষ্ট ধর্মের সুনির্দিষ্ট অনুশাসন মানা না হলে তা ধর্মীয় অপরাধের তকমা পায় অনেক দেশে। তবে সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের হাত ধরে এখন অপরাধের চরিত্রও বদলাচ্ছে দ্রুত।

অপরাধ এবং অপরাধী

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অপরাধ বা ক্রাইম কত ধরনের হতে পারে? ইতালির বিশিষ্ট অপরাধবিজ্ঞানী সিজার লমব্রসো অপরাধের কারণ এবং বিভিন্ন দিক নিয়ে ধারাবাহিক গবেষণা চালিয়েছিলেন। তাঁর ‘অন ক্রিমিনাল ম্যান’ বইতে তিনি খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন অপরাধীদের চরিত্র। মূলত ৪ভাগে অপরাধীদের ভাগ করেছিলেন লমব্রসো – ১) ইনসেন ক্রিমিনাল ২) ইনবর্ন ক্রিমিনাল ৩) অকেশনাল ক্রিমিনাল এবং ৪) প্যাশনেট ক্রিমিনাল। প্রবেশ করা যাক একটু গভীরে। ইনসেন ক্রিমিনালরা সাধারণত মানসিক রোগের শিকার হয়ে থাকে। এই কারণেই তারা অপরাধ করে বসে। অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক আছে,শুধুমাত্র এই সন্দেহেই তারা খুন করে ফেলতে পারে প্রেমিকা কিংবা স্ত্রীকে। প্যারানোইয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলা মোটেই আশ্চর্যজনক নয়। সিজোফ্রেনিয়া রোগীরা আচমকা ক্ষেপে গিয়ে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় মারাত্মকভাবে আঘাত করা বসতে পারে কাউকে। যার পরিণতি হতে পারে মৃত্যু। ম্যানিক স্টেজও বিপদ ডেকে আনতে পারে অনেক সময়। নেশার ঘোরেও এই ধরনের অঘটন ঘটানো বিচিত্র নয়। এই প্রসঙ্গেই চলে আসে ‘ইরোটোম্যানিক ডিলিউশন’এর কথা। ইরোটোম্যানিয়ার রোগী আবার মনে করতে পারে যে কোনও সেলিব্রিটির সঙ্গে তার গোপন প্রেম আছে। এই অমূলক ধারণার বশেই সেই সেলিব্রিটির সঙ্গ কামনা করতে পারে সে। এবারে আসা যাক ইনবর্ন ক্রিমিনালের কথায়। লমব্রসোর বিশ্বাস ছিল, এদের মধ্যে অপরাধের বীজ সুপ্ত অবস্থায় থাকে জন্মগতভাবেই। শৈশব বা কৈশোর থেকেই অপরাধ প্রবণতা মাথাচাড়া হয়ে ওঠে এই ধরনের ক্রিমিনালদের মধ্যে। অন্যদিকে অকেশনাল ক্রিমিনালরা কিন্তু সত্যিই পরিস্থিতির শিকার। হঠাৎ একটা গোলমালের মধ্যে পড়ে গিয়ে নিছক প্রাণে বাঁচার তাগিদেই সে হয়তো কাউকে আঘাত করে বসলো এবং পরিণতিতে তার মৃত্যু হলো। এক্ষেত্রে অপরাধটা হয়তো অনিচ্ছাকৃত। কিন্তু তবুও আইনের চোখে সে খুনি। তা হলে তাকে অপরাধীর তকমা দিল এক বিশেষ পরিস্থিতি। আবার প্যাশনেট ক্রাইমের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক প্রেম,ভালোবাসা,যৌনতৃষ্ণা কিংবা ঘৃণার। ব্যর্থপ্রেম,ত্রিকোণ প্রেম থেকে জন্ম নেওয়া হতাশা,ঘৃণা আমন্ত্রণ জানাতে পারে অপরাধপ্রবণতাকে। প্রতিহিংসা কিংবা আক্রোশের বশে নিজের ভালোবাসার মানুষকে নৃশংসভাবে খুন করতেও হাত কাঁপে না অপরাধীর। প্রত্যাখ্যান বা ভালোবাসায় আঘাতের পরিণতিতে জন্ম নিতে পারে এই ‘ক্রাইম অফ প্যাশন’।

মনে রাখতে হবে এ সবই কিন্তু মোটামুটিভাবে বিচ্ছিন্ন অপরাধ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ‘ অর্গানাইজড ক্রাইম’ বা সংগঠিত অপরাধ। নারীপাচার, মধুচক্র, মাদক পাচার, সীমান্তে চোরাকারবার, কালোবাজারি, তোলাবাজি— সবেতেই এখন মাফিয়ারাজ, সংগঠিত অপরাধ। অসাধু প্রমোটার-চক্র কিংবা ফিল্ম ওয়ার্ল্ডে দাদাগিরিতেও এখন একই কালচার। দলের পান্ডা গ্রেফতার বা নিহত হলে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসে আর একজন। ‘মাফিয়া’ কথাটার প্রথম পরিচিতি অবশ্য ইতালিতে। সংগঠিত অপরাধের আরও একটা ভয়াবহ রূপ হলো সন্ত্রাসবাদ। নেপথ্য কারণ মূলত ধর্মীয়। রাজনৈতিক কিংবা জাতিগত সন্ত্রাসের উদাহরণও আছে। নিছক বিশ্বাস আর আদর্শের অজুহাতে নিরীহ মানুষের রক্তের নেশায় মেতে ওঠে নানা সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী কিংবা দল। অবলীলায় ধ্বংস করে সরকার আর জনগণের সম্পত্তি। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে তৈরি করে আত্মঘাতী বাহিনী। মানবসভ্যতা,মানবতাবোধ, মানবাধিকার,সৌভ্রাত্র এবং বিশ্বশান্তির সামনে যা এক মস্তবড়ো চ্যালেঞ্জ। এর বাইরেও আছে ‘সাইবার ক্রাইম’ এবং ‘হোয়াইট কলার ক্রাইম’। ইন্টারনেটের যুগে সাইবার ক্রাইম এখন বিশ্বসভ্যতার মাথাব্যথার কারণ। আর হোয়াইট কলার ক্রাইম সমাজজীবন এবং অর্থনীতির সামনে নিশ্চিতভাবেই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। সমাজের ওপরতলার লোকেরা নিজেদের পদাধিকার এবং প্রভাবের জোরে নিছক লোভের বশে জড়িয়ে পড়ে নানা আর্থিক কেলেঙ্কারিতে। এছাড়া রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ণও প্রসারিত করে চলেছে অপরাধের অন্ধকার পথকে।

সমাজবিরোধী ব্যক্তিত্ব-বিকার

গবেষণা বলছে, অপরাধ প্রবণতার নেপথ্যে রয়েছে অদ্ভুত মনস্তত্ত্ব। দেখা গেছে সমাজবিরোধীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিত্ব বিকারের শিকার। মনস্তত্ত্বের ভাষায় যাকে বলে ‘অ্যান্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’। রয়েছে ব্যক্তিত্বের আরও জটিল বিকৃতি ‘সাইকোপ্যাথি’। অ্যান্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারকে ভাগ করা যেতে পারে দু’টো স্তরে। প্রথমটা ১৫বছর বয়স পর্যন্ত আর দ্বিতীয় স্তর প্রাপ্ত বয়সে। ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের মধ্যে যদি চারিত্রিক বিকৃতি বা Conduct Disorder দেখা যায় তবে তা হতে পারে ভবিষ্যতের পক্ষে লাল সঙ্কেত। বাড়ি থেকে পালানো, স্কুল পালানো, কারণে-অকারণে মিথ্যে কথা বলা,আক্রমণাত্মক মনোভাব, মারামারি করা,চুরি করা,সম্পত্তির ক্ষতি করা, আগুন লাগিয়ে দেওয়া— এ সবই সমাজবিরোধী ব্যক্তিত্ব বিকারের লক্ষণ। এক্ষেত্রে কিশোর অপরাধীকে বলা হয় ‘ডেলিনকুয়েন্ট’। এই আচরণগুলো যদি প্রাপ্ত বয়সেও বহাল থাকে তবে তা খুবই বিপজ্জনক এবং অবশ্যই বুঝতে হবে যে ঐ ব্যক্তি অ্যান্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে ভুগছে। এই ধরনের বিকারগ্রস্ত মানুষ আইনকানুন বা সামাজিক বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করে না, অসঙ্গত আচরণ করে,সহজেই মেজাজ হারায়, বেপরোয়া-আক্রমণাত্মক হয়,অন্যের নিরাপত্তা নিয়ে মোটেই মাথা ঘামায় না, মারদাঙ্গা পছন্দ করে,অত্যন্ত স্বার্থপর হয়,ঋণ নিয়ে শোধ করে না। দায়িত্বজ্ঞানের বালাই নেই। বিবেকবোধ তো নেই-ই,আবেগ নিয়ন্ত্রণেও এরা অপারগ। আকাঙ্খা অবদমন করতে না পেরে ঝোঁকের মাথায় পরিকল্পনাহীন কাজ করে বসে। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মিথ্যাচার, প্রতারণা, ধর্ষণ,লুঠপাট, তোলাবাজি, খুনখারাবির মতো দুষ্কর্মেও এদের কুন্ঠা নেই। অপরাধকে পেশা হিসেবে নিলে তো আর কোনও কথাই নেই। নেই কোনও অনুশোচনার বালাই। শিশুদের ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার’ বা ADHD-র সঙ্গে Conduct Disorder দেখা দিলে প্রাপ্ত বয়সে সমাজবিরোধী আচরণ দেখা দিতে পারে তাদের মধ্যে।

সাইকোপ্যাথির ভয়াবহতা

ব্যক্তিত্বের বিকৃতির আরও একটা ভয়ঙ্কর রূপ হলো ‘সাইকোপ্যাথি’। সাইকোপ্যাথদের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক-এই দু’ধরনের আবেগের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে সর্বনাশের বিষ। কোনও লজ্জাবোধ নেই এদের মধ্যে। আত্মমর্যাদার প্রশ্নে নিজেদের সম্পর্কে ফোলানো ফাঁপানো উচ্চ ধারণা এদের। প্রতারণায় সিদ্ধহস্ত। বন্ধু বা শুভাকাঙ্খীর অভিনয় করে বিশ্বাস অর্জন করে নিজের স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে চরম ক্ষতি করে দিতে পারে অন্যের। ভালোবাসা কিংবা সমবেদনার নিখুঁত অভিনয় করতে পারে এরা। নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে অন্যকে। অন্যকে ঠকিয়ে তাঁর সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও জুড়ি নেই এদের। অনুশোচনার বালাই নেই এদের মধ্যে। ভুল থেকে শিক্ষালাভেরও কোনও প্রশ্নই নেই। অতএব, সাবধান!

বংশগতির ধারায়

সমাজবিরোধী আচরণ জেগে ওঠার নেপথ্যে পরিবেশের প্রভাবের কথা অস্বীকার করা যায় না কোনওভাবেই। থাকে জীবন-যন্ত্রণার কাহিনিও। দারিদ্র্য,অশিক্ষা,অকালে অভিভাবক-বিয়োগ,মা-বাবার বিচ্ছেদ,পারিবারিক অশান্তি, শৈশব-কৈশোরে স্নেহ-ভালোবাসার অভাব, বঞ্চনা, অবহেলা, অত্যাচারের মতো জীবনযন্ত্রণা মনের মধ্যে জাগিয়ে তোলে সমাজের প্রতি ঘৃণা। জেগে ওঠে প্রতিহিংসা,বদলা নেওয়ার ইচ্ছে। অসুখী বিবাহিত জীবন,ব্যর্থপ্রেম,অসৎসঙ্গ,ঈর্ষা এবং পরশ্রীকাতরতাও উস্কে দিতে পারে অপরাধের মানসিকতাকে। গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে হতাশা কিংবা অবসাদও। হীনমন্যতা, লোভ, উচ্চাকাঙ্খা, বিলাসবহুল জীবনযাত্রার হাতছানি, অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাও মানুষকে টেনে আনে অন্ধকার জগতে। তবে বংশগতির ধারা বা জেনেটিক প্রভাবের বিষয়টাও খুবই গুরুত্ব পাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষাণায়। সঠিক কারণ খুঁজে বের করা বেশ কঠিন কাজ হলেও অ্যানাটমি তথা ফিজিওলজি অনেকটাই আলোকপাত করেছে সাম্ভাব্য কারণের ব্যাপারে। বিশিষ্ট সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. অমরনাথ মল্লিক জানিয়েছেন, অসামাজিক ব্যক্তিত্বের ছেলেমেয়েদের অনেকেরই মস্তিষ্কের টেম্পোরাল লোবে অসংলগ্নতা দেখা যায় ইইজি রিপোর্টে। সম্ভবত মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করা এবং তা প্রশমিত বা নিস্তেজ করার ব্যবস্থার ভারসাম্যের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এর আসল রহস্য। মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে ‘গ্লুটামেট’ নামে একটা নিউরোহরমোন বা নিউরোট্রান্সমিটার। অন্যদিকে এই উত্তেজনাকে প্রশমিত করে মস্তিষ্ককে নিস্তেজ করে ‘গামা অ্যামাইনো বিউটেরিক অ্যাসিড’ নামে আর এক ধরনের নিউরোহরমোন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সমাজবিরোধী ব্যক্তিত্বের মানুষদের মস্তিষ্কে উত্তেজনা প্রশমনের প্রক্রিয়া ঠিকঠাক চলে না আদৌ।

শরীরের ভাষা

শরীরের গঠনের সঙ্গে অপরাধের ধরনের সম্পর্ক খুঁজে বের করেছিলেন ক্রেসমার এবং সেলডন নামে দুই বিজ্ঞানী। তাঁদের বিচারে অপরাধীদের শারীরিক গঠন বিশেষ বিশেষ ধরনের। যেমন, ‘অ্যাসথেনিক’, ‘অ্যাথলেটিক’, ‘পিকনিক’। অ্যাসথেনিক গঠনের চেহারার বৈশিষ্ট্য, রোগাটে চেহারা,চর্বি প্রায় নেই বললেই চলে।প্রায় স্পষ্ট দেখা যায় পাঁজড়। ‘অ্যাথলেটিক’ গঠনের লোকেদের বুক আর কাঁধ বেশ চওড়া। পেশিবহুল পেটাই চেহারা। এই দু’ধরনের মানুষের মধ্যে সিজোফ্রেনিক ব্যক্তিত্বের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায় সাধারণত। খুন,ডাকাতি,রাহাজানিতে এদের যুক্ত থাকার প্রবণতা বেশি। অন্যদিকে ‘পিকনিক’ গঠনের লোকেরা প্রতারণা-জালিয়াতি, ধর্ষণের মতো অপরাধে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এদের উচ্চতা এবং ওজন সাধারণত কম। পেশীবহুলও নয়। অনেকেরই নিত্যসঙ্গী বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার।

একটা সময় ছিল যখন মাথার গঠন দেখে বোঝার চেষ্টা হতো মানুষের চরিত্র। একে বলা হতো ‘ফ্রেনোলজি’। মার্কিন মুলুকেও ব্যাপারটায় আস্থা রাখতেন অনেকে। আগে মনে করা হতো অপরাধপ্রবণ মানুষের কান আর মুখ লম্বাটে হয়। অনেকটা ব্যবধান থাকে দু’চোখের মাঝে। দিন বদলাচ্ছে। এখন কিন্তু এ সব ধারণা কার্যত অচল।

আলোয় ফেরা

ক্রিমিনাল প্রোফাইল যাই বলুক না কেন প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করার জন্য কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও বাঁধাধরা ফরমুলা নেই। একজন অকেশনাল ক্রিমিনাল বা প্যাশনেট ক্রিমিনাল যেমন সংশোধনাগারে দাগী অপরাধীদের সংস্পর্শে এসে পেশাদার অপরাধীতে পরিণত হতে পারে, তেমনি একজন সমাজবিরোধী ব্যক্তিত্ব-বিকারগ্রস্ত মানুষের মনেও কিন্তু কৃতকর্মের জন্য একদিন না একদিন জাগতে পারে গভীর অনুশোচনা। অন্ধকার জগৎ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রকৃত অর্থেই আত্মিক শুদ্ধির বাসনা জাগতে পারে তার। অপরাধী মুখোমুখি হতে পারে নিজের বিবেকের। অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠতে পারে মন। সমীক্ষা বলছে, এই ব্যাকুলতা ক্রমশই বেড়ে চলেছে সমাজবিরোধী তথা অপরাধীদের মধ্যে। কিন্তু ফেরার পথটা কি আদৌ মসৃণ? হ্যাঁ, সাইকোলজিকাল কাউন্সেলিং এবং নাচ- গান-শিক্ষা-শিল্পচর্চার মতো ‘আদার এক্সপ্রেসিভ থেরাপি’র হাত ধরে সত্যিই অনায়াসে ফিরে আসা সম্ভব সমাজের মূলস্রোতে। অবশ্য রাষ্ট্রের ভূমিকা এবং আলোর জগতে ফিরে আসতে ইচ্ছুক সমাজবিরোধীর সুস্থ সমাজ-জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা এক্ষেত্রে অবশ্যই একটা বড় ফ্যাক্টর।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*