বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস চেতনা

ড. মিল্টন বিশ্বাস

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইতিহাস চেতনার কথা বলতে হলে তাঁর কারা অন্তরীণ জীবনে রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং ‘আমার দেখা নয়াচীনে’র দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। অধিকন্তু তাঁর ভাষণ, সাক্ষাৎকার ও অধ্যয়ন আগ্রহের তথা ইতিহাসতত্ত্বের মতো গ্রন্থ পাঠের কথাও এক্ষেত্রে সামনে আনতে হবে। অর্থাৎ ২০২০ সালের ‘মুজিববর্ষে’ তাঁকে স্বতন্ত্র দৃষ্টিকোণ থেকে আবিষ্কার করা সম্ভব।

বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনে এক যুগেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। অর্থাৎ ৫৫ বছরের জীবনে এক চতুর্থাংশ কেটেছে কারাগারে। তিনি ১৯৩৮ সালে প্রথম কারাগারে যান। এরপর ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিনি পাঁচ দিন কারাগারে ছিলেন। একই বছর ১১ সেপ্টেম্বর আটক হয়ে মুক্তি পান ১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি। এ দফায় তিনি ১৩২ দিন কারাভোগ করেন। এরপর ১৯৪৯ সালের ২৯ এপ্রিল আবারও কারাগারে গিয়ে ৮০ দিন কারাভোগ করে মুক্তি পান ১৭ জুলাই। ওই দফায় তিনি আরো ২৭ দিন কারাভোগ করেন। একই বছরের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৩ দিন অর্থাৎ ১৯৪৯ সালে আরো ৯০ দিন জেলখানায় ছিলেন। ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৫২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি টানা ৭৮৭ দিন কারাগারে ছিলেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পরও বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে যেতে হয়। সে সময়ে ৩০ মে ১৯৫৪ থেকে ২৩ ডিসেম্বর ১৯৫৪ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ২০৬ দিন কারাভোগ করেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারির পর বঙ্গবন্ধু ১১ অক্টোবর গ্রেফতার হন। এ সময়ে টানা ১ হাজার ১৫৩ দিন তাঁকে কারাগারে কাটাতে হয় ৮ ডিসেম্বর ১৯৬১ পর্যন্ত। এরপর ১৯৬২ সালের ৬ জানুয়ারি আবারও গ্রেফতার হয়ে মুক্তি পান ওই বছরের ১৮ জুন। এ দফায় তিনি কারাভোগ করেন ১৫৮ দিন। এরপর ’৬৪ ও ’৬৫ সালে বিভিন্ন মেয়াদে তিনি ৬৬৫ দিন কারাগারে ছিলেন। ছয় দফা দেওয়ার পর জাতির পিতা যেখানে সমাবেশ করতে গেছেন, সেখানেই গ্রেফতার হয়েছেন। ওই সময়ে তিনি ৩২টি জনসভা করে বিভিন্ন মেয়াদে ৯০ দিন কারাভোগ করেন। এরপর ৬৬ সালের ৮ মে আবারও গ্রেফতার হয়ে ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তি পান। এ সময় তিনি ১ হাজার ২১ দিন কারাগারে ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে। এ দফায় তিনি কারাগারে ছিলেন ২৮৮ দিন। এই যে দীর্ঘ সময়ের হিসাব এখানে বলা হলো এই সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিভৃত কারাগারে একলা কাটাতে হয়েছে। তিনি নিঃসঙ্গ ও একাকীত্ব জীবনে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরিকল্পনা করেন। সমকালীন আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি নিয়ে ভাবিত হন এবং বিশ্ব রাজনীতি নিয়েও নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন। এছাড়া কারাগারে সময় কাটে তাঁর বই পড়ে। সেখানে রবীন্দ্র-নজরুলের বইয়ের সঙ্গে ভারতের ইতিহাস ঐতিহ্যের বইও তিনি পাঠ করেছেন নিয়মিত। একারণে তাঁর নিজের জীবন থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতা এবং ইতিহাসের পাঠ থেকে গৃহীত অনুভাবনা বিস্তারিত লিপিবদ্ধ আছে বিভিন্ন প্রসঙ্গে। যেমন, ১৯৬৬ সালে বন্দি জীবনে ৪৭ এর দেশভাগ নিয়ে তাঁর ইতিহাসের আলোকে চিন্তারাশি- ‘প্রেসিডেন্ট সাহেব গোড়ায়ই গলদ করেছেন। যে কর্মসূচির কথা উনি আলোচনা করেছেন তার মধ্যে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানকে আলাদা করার কোনো কর্মসূচি নাই। স্বায়ত্তশাসনের দাবি নতুন নয় এবং যে লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তান কায়েম করা হয়েছিল তার মধ্যে স্বায়ত্তশাসনের কথা পরিষ্কার ভাষায় লেখা ছিল। তিনি সে সম্বন্ধে ভাবলেন না। আর যে গোষ্ঠীর কথা বলেছেন, তারা পাকিস্তান কায়েম করার জন্য সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি যাদের নিয়ে শাসন করছেন তারা অনেকেই পাকিস্তানের আন্দোলনে শরীক তো হনই নাই, বৃটিশকে খুশি করার জন্য বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি যদি সময় না পেয়ে থাকেন পড়তে, তাঁকে আমি ভারতবর্ষ ও পাকিস্তান-দুইটা রাষ্ট্র গঠন হওয়া সম্বন্ধে কিছু ইতিহাস দিতে চাই।

পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণ যে অবিচ্ছেদ্য সে সম্বন্ধে কাহারও মনে এতটুকু সন্দেহ নাই। তবে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের শোষক ও শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন চায়, কারণ ১৯ বৎসর পর্যন্ত ছলে বলে কৌশলে এবং মীরজাফরদের সহায়তায় পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ করে এমন এক জায়গায় আনা হয়েছে তার থেকে মুক্তি পেতে হলে, শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম করা ছাড়া তাদের উপায় নাই। যখন পূর্ব পাকিস্তানের দাবি-দাওয়ার কথা হয়েছে, তখনই এই একই কথা একইভাবে সকলের মুখ দিয়েই শুনেছি। তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সাময়িকভাবে অত্যাচার করে বন্ধ করলেও অদূর ভবিষ্যতে এমনভাবে শুরু হতে বাধ্য, যারা ইতিহাস পড়েন তারা তা জানেন। এইভাবে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি শাসকগোষ্ঠী যদি অত্যাচার করে দাবাইয়া দিতে চান তার পরিণতি দেশের জন্য ভয়াবহ হবে।

ভারতের মুসলমানরা যখনই তাদের অধিকারের জন্য দাবি করেছে তখন বর্ণ হিন্দু পরিচালিত কংগ্রেস তার বিরুদ্ধাচরণ করে বলেছে, মুসলমানরা স্বাধীনতা চায় না। মুসলমানরা ফেডারেল ফর্মের সরকার দাবি করেছিল, কিন্তু কংগ্রেস এককেন্দ্রিক সরকার গঠন করার জন্য চেষ্টা চালাতে থাকল। মুসলমানরা বাংলাদেশ, পাঞ্জাব, সিন্ধু, সীমান্ত প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ হলে এই কয়েকটি প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসাবে শাসন চালাতে পারে, এ জন্য ফেডারেল ধরনের শাসনতন্ত্র দাবি করল।

১৯২১ সালে মওলানা হজরত সোহানী যখন মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন, তিনি ঘোষণা করেছিলেন, The fear of Hindu majority can be removed, if an Indian Republic was established on federal basis, similar to that of United States of America.

ইউনাইটেড স্টেটস অব ইন্ডিয়া হলে যে সব প্রদেশে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে সেখানে মুসলমানরা শাসন করতে পারবে। কিন্তু কংগ্রেস এতে রাজি হলো না, যদিও এই বৎসর হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে একটা স্থায়ী শান্তি প্রচেষ্টা খুব ভালভাবে চলছিল।

১৯২৪ সালে মিঃ জিন্নার সভাপতিত্বে লাহোরে মুসলিম লীগের যে সভা হয়। সেখানে মুসলমানদের পক্ষ থেকে এক প্রস্তাব করা হয়েছিল। তা এই,  it envisaged that the existing provinces shall be united under a common government on federal basis, so that each province shall have full and complete provincial autonomy, the functions of the central government being confined to such matters only as are of general and common concerns.

এই প্রস্তাবেও কংগ্রেস রাজি হতে পারলো না। ১৯২৮ সালে সর্বদলীয় কনফারেন্সে মতিলাল নেহেরুকে ভার দেওয়া হলো একটা রিপোর্ট দাখিল করতে, যাতে হিন্দু মুসলমান সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এ রিপোর্ট আরও বিভেদ সৃষ্টি করল।

এর পরেই কলিকাতায় সর্বদলীয় সম্মেলন ডাকা হলো নেহেরু রিপোর্ট সম্বন্ধে আলোচনা ও তা গ্রহণ করার জন্য। মি. জিন্না তখন কতকগুলি সংশোধনী প্রস্তাব দিলেন এবং দুনিয়ার বহুদেশের শাসনতন্ত্রও সেখানে উল্লেখ করলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় তার একটি সংশোধনী প্রস্তাবও গ্রহণ করা হল না। তিনি চোখের পানি ফেলে বের হয়ে এসেছিলেন। মি. জিন্নাকে হিন্দু মুসলমানের ‘মিলনের দূত’ বলা হতো। এর পরেই ছোট ছোট যে দলাদলি মুসলমানদের মধ্যে ছিল তা শেষ হয়ে গেল। স্যার মহম্মদ সফি ও মি. জিন্নার দল একতাবদ্ধ হয়ে ১৯২৮ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম কনফারেন্স ডাকলেন দিল্লীতে। সেখানে তাঁদের পুরানা দাবি ফেডারেল সরকারের প্রস্তাব দিলেন এবং ভবিষ্যতে মুসলমানদের দাবি কি হবে সেগুলিও গ্রহণ করলেন। সেখানে তারা পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব গ্রহণ করলেন। এরপরেই জিন্না সাহেবের ১৪ দফা বের হলো। এতে ছিল, It pointed out that no constitution would be acceptable to muslims unless and until it is based on federal principles with residuary powers vested in the province.

১৯৩০-৩১ সালে যে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স বিলাতে হয় তাতে ভারতের মুসলমানদের পক্ষ থেকে এই একই দাবি স্যার সফি করেছিলেন। এমনকি মওলানা মহম্মদ আলি বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ম্যাকডোনাল্ডের কাছে ১৯৩১ সালে এক চিঠিতে লিখেছিলেন যে, মুসলমানদের একমাত্র গ্রহণযোগ্য ফেডারেল শাসনতন্ত্র যেখানে প্রদেশগুলি পাবে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন।

১৯৩৭ সালে কয়েকটা প্রদেশে কংগ্রেস শাসিত মুসলমানদের উপর ভাল ব্যবহার করা হলো না। আলোচনা হয়েছিল প্রদেশে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠন করা হউক। কংগ্রেস রাজি হয় নাই। তার পরেই ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব মুসলিম লীগ গ্রহণ করে। যার ফলে আজ ভারতবর্ষ দুই দেশে ভাগ হয়েছে।’

ভারত ভাগের এই ইতিহাস বর্ণনায় বঙ্গবন্ধু নির্মোহ। পূর্ব বাংলার তৎকালীন বাস্তবতায় এই ঘটনাগুলো সামনে আনার মধ্য দিয়ে তিনি পাকিস্তানি শাসকদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তেমনি আবার স্বাধীকার আন্দোলনে সম্পৃক্ত বাঙালিদের ন্যায্য দাবির যুক্তি সামনে এনেছেন।

কেবল দেশভাগ নয় জেলে বসে তিনি আন্দোলন নিয়ে ভেবেছেন অনেক। এজন্য বারবার এসেছে সিরাজ-উদ-দৌল্লা ও মীরজাফরের কথা। রাজনীতিতে বিশ্বাসঘাতকতার অনেক দৃষ্টান্ত তাঁর সামনে ছিল তাই ইতিহাসের এই চরিত্রগুলোর প্রসঙ্গ আসাটা স্বাভাবিক। তবে তিনি শুরু করেছেন ইতিহাসের আরো প্রাথমিক পর্বের ঘটনা দিয়ে- ‘বাংলাদেশ শুধু কিছু বেঈমান ও বিশ্বাসঘাতকদের জন্যই সারাজীবন দুঃখ ভোগ করল। আমরা সাধারণত মীর জাফর আলি খার কথাই বলে থাকি। কিন্তু এর পূর্বেও ১৫৭৬ সালে বাংলার স্বাধীন রাজা ছিল দাউদ কারানী। দাউদ কারানীর উজির শ্রীহরি বিক্রম-আদিত্য এবং সেনাপতি কাদলু লোহানী বেঈমানি করে মোগলদের দলে যোগদান করে। রাজমাবাদের যুদ্ধে দাউদ কারানীকে পরাজিত, বন্দি ও হত্যা করে বাংলাদেশ মোগলদের হাতে তুলে দেয়। এরপরও বহু বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এই বাঙালি জাত। একে অন্যের সাথে গোলমাল করে বিদেশি প্রভুকে ডেকে এনেছে লোভের বশবর্তী হয়ে। মীরজাফর আনলো ইংরেজকে, সিরাজদ্দৌলাকে হত্যা করল বিশ্বাসঘাতকতা করে। ইংরেজের বিরুদ্ধে এই বাঙালিরাই প্রথম জীবন দিয়ে সংগ্রাম শুরু করে; সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয় ব্যারাকপুর থেকে। আবার বাংলাদেশে লোকের অভাব হয় না ইংরেজকে সাহায্য করবার। ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত এই মাটির ছেলেদের ধরিয়ে দিয়ে ফাঁসি দিয়েছে এদেশের লোকেরাই সামান্য টাকা বা প্রমোশনের জন্য।

পাকিস্তান হওয়ার পরেও দালালি করার লোকের অভাব হলো না-যারা সব কিছুই পশ্চিম পাকিস্তানে দিয়ে দিচ্ছে সামান্য লোভে। বাংলার স্বার্থ রক্ষার জন্য যারা সংগ্রাম করছে তাদের বুকে গুলি করতে বা কারাগারে বন্দি করতে এই দেশে সেই বিশ্বাসঘাতকদের অভাব হয় নাই। এই সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ এত উর্বর; এখানে যেমন সোনার ফসল হয়, আবার পরগাছা আর আগাছাও বেশি জন্মে। জানি না বিশ্বাসঘাতকদের হাত থেকে এই সোনার দেশকে বাঁচানো যাবে কিনা!’

এখানে বঙ্গবন্ধু যে আশঙ্কা অনুভব করেছিলেন জেলে বসে ১৯৬৬ সালে; সেই বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনা ঘটেছিল স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে। তিনি বাঙালি জাতিকে নিয়ে যথার্থই ভেবেছিলেন, আর তা ছিল ইতিহাসের শিক্ষা। কেবল নিকট বা দূর ইতিহাস নয় সমকালীন বৈশ্বিক ঘটনা ধারায় তিনি রাজনৈতিক ইতিহাসকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন নিবিড়ভাবে। তিনি ভিয়েতনামে আমেরিকার আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছেন, চীনের আচরণে হতাশ হয়েছেন, ইন্দোনেশিয়ার গণতন্ত্র নিয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেছেন এমনকি কঙ্গো নিয়ে ভেবেছেন। ব্রিটেন, আমেরিকা ও চীনের সঙ্গে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নিজের শঙ্কা লিখে গেছেন। পরবর্তীতে স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতিতে যে অসামান্য সাফল্য লক্ষ করা যায় তা তাঁর কারাজীবনের ভাবনারই বাস্তব রূপায়ণ। এই সাফল্য অর্জনে তিনি সক্ষম হয়েছিলেন ইতিহাস চেতনায় নিজে ঋদ্ধ ছিলেন বলেই।

(লেখক : ড. মিল্টন বিশ্বাস,  বিশিষ্ট লেখক, কবি, কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ এবং অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, email-drmiltonbiswas1971@gmail.com)

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*