গুজরাটি পুঁজির আগ্রাসন বাংলা দখলের মরিয়া চেষ্টা

দীপঙ্কর দে

কঠিন শত্রুর মোকাবিলায় প্রয়োজনে দুর্বল শত্রুর সঙ্গে হাত মেলাতে হয়। এটাই ঐতিহাসিক বাস্তব। নইলে হিটলারকে ঠেকাতে স্তালিন, চার্চিল  হাত মেলাতেন না।

২০২১ সালে পশ্চিম ভারতের গুজরাটি পুঁজি বাংলা দখলে মরিয়া, কারণ তারা ভারতের পূর্ব উপকূলে ব্যাবসায়িক প্রাধান্য বাড়াতে চায়। বিশ্ববাণিজ্যের ভর এখন পশ্চিম এশিয়া থেকে পূর্ব এশিয়ায় স্থানান্তরিত হয়েছে। কলকাতা হলদিয়া তাজপুর বন্দর তাদের চাই। নেতাজির নাম বদলে শ্যামা প্রসাদের নামে বন্দরের নামকরণ তারই অশুভ সূচনা।

২০২১ সালের নির্বাচনী লড়াই সে অর্থে বাংলার সাথে গুজরাটি পুঁজির লড়াই। এই অবস্থায় দীর্ঘ কাল বাংলায় বেড়ে ওঠা সনাতনপন্থী মাড়োয়ারি পুঁজি কোন দিকে যাবে? তৃণমূলের সাথে না মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপির সাথে? আশা করি তাঁরা এবিষয়ে ভেবে চিন্তেই সিদ্ধান্ত নেবেন। বর্গীরা আবার বাংলা দখল করলে সবার অস্তিত্বই বিপন্ন হবে।

দীর্ঘদিন বাংলার যেসব বণিকরা বঞ্চিত হয়েছেন, কোনঠাসা হয়েছেন, তারা গত দশ বছরে অনেকটাই বিকশিত হয়েছেন। দীর্ঘকাল তাদের কোনঠাসা করেছে ভদ্রলোক বাঙালি ও মাড়োয়ারি বানিয়া পুঁজি। এটা ঐতিহাসিক সত্য। লড়াইটা মূলত পূর্ব ভারতের বিরুদ্ধে পশ্চিমি পুঁজির আগ্রাসন। লড়াইটা কঠিন। একচেটিয়া পুঁজির বিরুদ্ধে লড়াই সোজা নয়। টাকার ক্ষমতা অনেক। বেনোজলে ভর্তি হয়ে গেছে দীঘি। আমার আপন জনেরাও স্থানীয় নেতাদের অপকর্মের স্বীকার হয়েছে। তাদের রক্ষা করতে পারিনি অনেক চেষ্টা করেও। অপরাধীও শাস্তি পায়নি।

পৃথিবীর মানচিত্রে প্রায় খুঁজে না পাওয়া একটা রাষ্ট্র অন্তত দু-শ বছর ধরে বিশ্বের বড় অংশকে শাসন করেছে মূলত কূট বুদ্ধির জোরে। ইংরেজরা দুটো বিশ্বযুদ্ধ লড়েছে উপনিবেশের সৈন্যদের দিয়ে। এ দেশে হিন্দু, মুসলমান, বাঙালি, অসমীয়া, জাত-পাতের লড়াই বাধিয়ে নিজেদের লুট জারি রেখেছে তারা। মোদির নেতৃত্বে গুজরাটি সাম্রাজ্যবাদও একই সাম্রাজ্যবাদী নীতি প্রয়োগ করে লুট চালিয়ে যাচ্ছে। রোজ জাতপাতে বিভাজিত করা হচ্ছে হিন্দু, মুসলমান, বাঙালি, অসমীয়া, বিহারি প্রভৃতি জাতিকে। বাঙালিও বিভাজিত হচ্ছে রোজ। বিভাজনের ফাঁকেই গুজরাটি পুঁজি ঢোকানোর মরিয়া চেষ্টা। এটা রোখা জরুরি। এখানকার ছোট বড়ো ব্যবসায়ী এবং উদ্যোগপতিদের উচিত বাংলাকে সাম্রাজ্যবাদী গুজরাটি আগ্রাসী পুঁজি ও তাদের রাজনৈতিক এজেন্টদের থেকে রক্ষা করা।

2 Comments

  1. বেশ ভালো লেখা। পুঁজির এই অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে পুঁজির ভূমিকা আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা আশা করি। গায়ের জোরে এ সমস্ত কিছুকে অনলাইনে নিয়ে আসার চেষ্টা খুব একটা স্বাস্থ্যকর মনে হচ্ছে না। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও খুচরা পণ্যের বাজারে অনলাইনের ভয়ঙ্কর অনুপ্রবেশ একটু সন্ত্রস্ত করে তুলছে। পরের লেখায় আরো বিস্তারিত আলোচনা পড়তে চাই।

  2. আকর্ষণীয় তথ্য নির্ভর লেখা। অভিনন্দন। ও শুভেচ্ছা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*