শিলিগুড়িতে এবার তৃণমূলেরই পুরবোর্ড: গৌতম দেব

সিপিআইএম-কংগ্রেস আর নয়, বিজেপি কখনোই নয়, এবার তৃণমূল কংগ্রেস। পুর নির্বাচনে এই স্লোগান নিয়েই আমরা মানুষের কাছে যাব। নির্বাচন যখনই ‌‌‌হোক, তৃণমূল প্রস্তুত। রবিবার ১৫ মার্চ এ কথা বলেন মন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি বলেন, কংগ্রেস আর বিজেপিকে নিয়ে পাঁচ বছর সিপিআইএম পুরবোর্ড চালিয়ে কোনও কাজ করেনি। শহরকে জঞ্জালে পূর্ণ করে এখন সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে মিটিং করছেন মেয়র! তাঁর প্রশংসা করছেন বিজেপি সাংসদ, মেয়র দেশের নানা প্রান্তে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। লোকসভা ভোটে সিপিআইএম বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে সিপিআইএম শূন্য ছিল, নির্বাচনী এজেন্টরাও ভোট দিয়েছেন বিজেপিতে। অশোকবাবুর নিজের ওয়ার্ডে সিপিআইএম তিনে ছিল। মানুষ ওদের ভোট ট্রান্সফার ধরে নিয়েছেন। মেয়র সত্তরোর্ধ্ব, তাই আর রিনিউয়াল নয়। উত্তরবঙ্গে মা-মাটি-মানুষ সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে গৌতমবাবু বলেন, এসজেডিএ ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর শিলিগুড়িতে রাস্তা, নিকাশি-সহ কাজ করতে গেলেও বাধা দিয়েছে সব বিরোধী দল একজোট করা ‘শিলিগুড়ি মডেল’-এর পুরবোর্ড। ফলে রাজ্য সরকার নিজেই অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যে কাজগুলি ইতিমধ্যেই শেষ সেগুলি ১৭ ও ১৮ মার্চ উদ্বোধন হবে। এখানে কর কাঠামোয় ভারসাম্য নেই। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সব কিছু অনলাইনে আনতে বললেও শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন তা করতে পারেনি, ৩৯ বছরে কিছুই হয়নি। শিলিগুড়িতে সুসংহত, স্বচ্ছ, আধুনিকমনস্ক পুরবোর্ড গড়ে নাগরিক পরিষেবা প্রতি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য। ভোটে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচনি ম্যানিফেস্টো তো থাকবেই, বরো ধরে ধরে কোথায় কোন কাজ কোন সময়ের মধ্যে শেষ হবে তাও প্রকাশ করা হবে। জলকর তুলে দেওয়া হবে। বস্তিবাসীদের জন্য বাড়ি তৈরি করা হবে। যানজট কমাতে দার্জিলিং মোড়ে বেইলি ব্রিজ-সহ কয়েকটি ব্রিজ তৈরি ও রাস্তা প্রশস্ত করা হবে। অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স নবীকরণ-সহ কর পরিকাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হবে। রাস্তা, নিকাশি-ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো, সৌন্দর্যায়ন, আলো লাগানো, আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুতের কেবল, মনোরেল চালু, কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংস্কার করে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলা, নতুন আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর স্টেডিয়াম গড়া-সহ শিলিগুড়িকে অন্য চেহারা দিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এদিন দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে এসে সিপিআইএম ও বিজেপির বহু কর্মী তৃণমূলে যোগ দেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*