ভোট চাইতে হবে না, সঠিক তথ্য নিয়ে মানুষের পাশে থাকুন, বার্তা যুবযোদ্ধাদের

তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইউনিক কর্মসূচি বাংলার যুবশক্তিতে সামিল যুবযোদ্ধাদের গাইড করতে পুরুলিয়া জেলায় রয়েছেন থ্রি মাস্কেটিয়ার্স- সোহম চক্রবর্তী, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ও নির্মাল্য চক্রবর্তী। ফিল্ড ইউনিট মেম্বারদের নিয়ে সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা সফরের দ্বিতীয় দিনে তাঁরা সভা করলেন পুরুলিয়ার বরাবাজারের এটিএম গ্রাউন্ডে। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সহ সভাপতি তথা এই জেলায় যুবশক্তি কর্মসূচির অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত সোহম চক্রবর্তী বলেন, শীঘ্রই এই কর্মসূচিতে ১০ লক্ষ যুবযোদ্ধাকে সামিল করতে হবে। জেলায় বিগত ৯ বছরে মা-মাটি-মানুষ সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে শপথ নিয়ে বলেছিলেন জঙ্গলমহল আমাদের আশীর্বাদ করেছে, সেখানে উন্নয়নের কাজ দ্রুতগতিতে করতে হবে।

১ লক্ষ ৪৫ হাজার বাড়ি হয়েছে। ২৬০০ কিলোমিটার রাস্তা বা রাস্তার সংস্কার হয়েছে। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, ফেয়ার প্রাইস শপ হয়েছে। আগে মুমূর্ষু রোগীকে কলকাতায় নিয়ে যেতে গেলে মাঝপথেই মৃত্যু হতো। কিন্তু এখন জেলাতেই চিকিৎসা হচ্ছে। কয়েক হাজার পড়ুয়া কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, সবুজসাথী-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। রাস্তাঘাট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, গরিব মানুষের মাথার উপর ছাদের বন্দোবস্ত হয়েছে। জঙ্গলমহলের মানুষের কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী জয় জোহার প্রকল্প চালু করেছেন। এসসি, এসটি সার্টিফিকেট না থাকলেও যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে কেউ বঞ্চিত না হন তা নিশ্চিত করতে হবে যুবযোদ্ধাদেরই। কোনও সমস্যা থাকলে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তা জানাবেন, খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নজর রাখছেন।

তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সহ সভাপতি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, এখানকার প্রচুর মানুষের আয় নির্ভর করে কেন্দুপাতার উপর। আগে কেউ তাঁদের দিকে নজর দিত না। মা মাটি মানুষ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সমাজসাথী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। কেন্দুপাতা বিক্রির ব্যবস্থা করে সকলে যাতে সঠিক দাম পান তা নিশ্চিত করে নিজে নজর রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। বিখ্যাত ছৌ ওস্তাদ ধনঞ্জয় মাহাত, যিনি ধুঁধা মাহাত নামে খ্যাত, ১২ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর এবং সকল ছৌ শিল্পীর পাশে আমরা রয়েছি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী পুরুলিয়ার ছৌ-কে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন, ছৌ শিল্পীদের জন্য নানারকম পদক্ষেপ করেছেন। সরকারি অনুষ্ঠান থেকে বিজ্ঞাপনের কাজেও তাঁদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর নেতৃত্বে রাজ্য সরকারের সব প্রকল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। সঠিক তথ্য তুলে ধরে একেকজন যুবযোদ্ধা ১০টি পরিবারের পাশে থাকুন। দেখবেন ভোট চাইতে হবে না। প্রকল্পের উপভোক্তারা ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দু-হাত ভরে আশীর্বাদ করবেন। আমাদের দলনেত্রীর উপর কিন্তু কারও রাগ, ক্ষোভ বা অভিমান নেই। যা আছে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের উপর। সেই খামতি দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে হবে। কোথাও কেউ যেন বলতে না পারেন কোনও প্রকল্পের কথা কেউ এসে জানায়নি বলে তার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।ফলে যুবযোদ্ধাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। এদিনের সভায় ছিলেন বিধায়ক রাজীবলোচন সরেন, জেলা সহ সভাধিপতি প্রতিমা সরেন, জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি সুশান্ত মাহাত প্রমুখ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*