যতদিন মমতা ব্যানার্জি থাকবে এনআরসি হবে না : অনুব্রত

অনুব্রত মণ্ডল। ডাকসাইটে কেষ্টদা নামেই বেশি পরিচিত। নিজস্ব স্বকীয়তায় সব সময়েই নিজেকে অন্যান্যদের থেকে আলাদা আসনে বসিয়েছেন। জনসভায় কথা বলার সময়ও তার নিজস্বতা সব সময়েই ফুটে ওঠে। কথা বলার মধ্যে থাকে মাটির গন্ধ। মাটির মানুষ, গ্রাম-বাংলার মাঠের সঙ্গে যাঁরা জড়িয়ে রয়েছেন তারা কেষ্টদার খুব আপন। কেষ্টদাও তাদের খুব আপনার জন। মঙ্গলকোটে জনসভায় বলতে উঠে কোনও ভণিতা করলেন না। কাউকে সম্বোধন করলেন না, শুরুই করলেন এইভাবে,—যখনই মঙ্গলকোটে মিটিং করতে আসি তখন জল নয়, ঝড় হয়। তবু কিন্তু মঙ্গলকোটের মানুষ মাটি ছাড়ে নাই। গায়ে জড়, ভেবেছিলাম আসবো না। কিন্তু মঙ্গলকোটের মানুষ আমাকে এতো ভালোবাসে যে ছুটে এলাম। মন বললো, ওখানে যা তোর জড় ঠিক হয়ে যাবে।

এরপরই এনআরসি বিরোধিতা নিয়ে একের পর এক তোপ দাগতে আরম্ভ করলেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।—আজ গোটা ভারতবর্ষে আগুন জ্বলছে এই ভারতবর্ষ তো আমরা দেখতে চাই নাই। এই ভারতবর্ষ তো আমরা মানতে পারি না। আজ সোনার ভারতবর্ষে একের পর এক মানুষ মারা যাচ্ছে। লজ্জা লাগে না মোদী, তুমি প্রশ্ন করো না, আজ দিল্লির বুকে ৪৬ জন মানুষ মারা গেল কি ছিল তাদের অপরাধ? কে হিন্দু কে মুসলমান, তুমি কৈফিয়ত দেবে না। তুমি তো ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী তোমাকে তো বলতে হবে। তুমি আবার প্রশ্ন করো পশ্চিমবাংলায় কোনও আইন শৃঙ্খলা নাই, মূর্খের দল। পশ্চিমবাংলার পুলিশ মানুষ মারে না। পশ্চিমবাংলায় কোনও দাঙ্গা হয় না। পশ্চিমবাংলায় শুধু একটা জিনিষ হয় শুধু উন্নয়ন। তোমার আইবি কোথায় গেল, তুমি আগে জানতে পারলে না কেন, তুমি একজন অযোগ্য প্রধানমন্ত্রী। ভারতবর্ষের সংবিধানে আছে যে কেউ বিরোধিতা করতে পারে তারা তো তাই করছিল। তোমার আগেও তো অনেকে প্রধান মন্ত্রী হয়েছে তারা কি অপদার্থ ছিল, তারা কেন এনআরসি করে নাই, তোমাদের প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীও এনআরসি করতে পারতো, তারা তো করে নাই। তুমি কেন করতে গেলে? তোমার আগের প্রধানমন্ত্রীরা সব অপদার্থ ছিল আর তুমি দারুণ প্রধানমন্ত্রী।

অহংকারী প্রধানমন্ত্রী তোমাকে একটা কথা বলে রাখি শোনো, পশ্চিম বাংলায় আমরা এনআরসি মানছি না, মানবো না। তোমাকেও কোনও কাগজ দেখাব না, তোমাকেও কোনও দলিল দেখাব না। আমি পশ্চিম বাংলার বাসিন্দা ভারতবর্ষ আমার মা। তোমার নিজের ঠিকানাই ঠিক নাই আবার তুমি পরের ঠিকানা খুঁজছ। ভয় দেখিওনা মোদী, আমার কোনও পিছুটান নেই, তুমি এনআরসির কথা বললে তোমাকে দূর দূর করে তারিয়ে দেব। তুমি মানুষের জন্য কিছু কর না। মমতা ব্যানার্জী স্বাস্থ্যের উন্নয়ন করেছে, কৃষিতে উন্নয়ন করেছে, তুমি কি করেছো? মানুষের জন্য তোমার মন কাঁদে না।

আচ্ছা আপনারা বলুন তো একাত্তর সালের দলিল কজনার বাড়িতে আছে? আমার বাবর যখন বিয়ে হয়েছিল তখন কি আমার বাবা আমার মায়ের দলিলটা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল? নরেন্দ্র মোদী তুমি মানুষকে বিভ্রান্ত করছো। আমরা মানুষের সঙ্গে আছি থাকবো। মমতা ব্যানার্জি গ্রামে গঞ্জে, শহরে যেদিকে তাকাও উন্নয়ন করেছে, উন্নয়নের নামে তোমার মতো ধোঁকা দেয় নাই। মমতা ব্যানার্জী উন্নয়ন করেছে তার নিদর্শন নলাটেশ্বরী মন্দির, তারাপীঠ, পাথরচাপরি, কঙ্কালীতলা। দেখবেন উন্নয়ন কিভাবে হয়েছে, কার জন্য করেছে মমতা ব্যানার্জী এত উন্নয়ন আপনাদের জন্য। আচ্ছা আপনারা বলতে পারবেন কটা মানুষের কাছে ৭১ সালের দলিল রয়েছে। তুমি দিল্লিতে বসে ফর্মান জারি করবে, আর আমরা তা মেনে নেব, তা হবে না। সামনের একুশের ইলেকশনেও আমরা থাকবো।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অনুব্রত মন্ডল, সাংসদ অসিত কুমার মাল, মঙ্গলকোট ব্লক সভাপতি অপূর্ব চৌধুরী, রানা সিংহ, মেহেবুব চৌধুরী, মুন্সি রেজাউল হক, চন্দন সরকার, ইব্রাহিম খান।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*